প্রচ্ছদ > জাতীয় >

ঢাকার আদালতপাড়ায় ভাড়ায় মেলে আসামি

article-img

ঢাকার আদালতপাড়ায় জালিয়াতি চক্রের নতুন এক চাঞ্চল্যকর কৌশলের তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও ঘটছে। তদন্তে এমন প্রতারণার সত্যতা পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের নথি ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা পূর্ব থানার একটি প্রতারণা মামলায় এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। মামলার এজাহারভুক্ত এক নারী আসামির পরিবর্তে অন্য এক নারী আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান।

জামিন শুনানির সময় বাদীপক্ষের আপত্তির পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে জানা যায়, আত্মসমর্পণকারী নারীর পরিচয় মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে মেলে না।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আত্মসমর্পণকারী নারী প্রকৃত আসামির একজন আত্মীয়। টাকার বিনিময়ে তিনি প্রকৃত আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি এবং তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এদিকে আদালত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আদালতপাড়াকে ঘিরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। আদালতের আশপাশের কয়েকটি ফটোকপির দোকানকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয় এসব কর্মকাণ্ড।

সূত্রগুলোর দাবি, প্রথমে কম্পিউটারে আদালতের নথির আদলে খসড়া তৈরি করা হয়। পরে বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করা বিচারকের স্বাক্ষর, আদালতের সিল, স্মারক নম্বর ও অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করে জাল নথি প্রস্তুত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় আসল নথির নমুনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর এসব জাল নথি দালাল বা গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য কাউকে আদালতে আত্মসমর্পণ করানো বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারণা রোধে আদালতকেন্দ্রিক দালালচক্র ও জালিয়াতদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আরো খবর